Posted in Freelancing

মার্কেটপ্লেসে নতুন হিসেবে যেভাবে শুরু করবেন

Collect Form Facebook
তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রযাত্রায় ঘরে বসে আয় বা ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। প্রথাগত চাকরির সময় মেনে অফিসে বসে কাজ করার থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ এনে দিয়েছে এই পেশাটি। গত কয়েক বছরে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং ক্ষেত্রটি দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পেয়েছে।
সময়সূচীতে ধরাবাঁধা নিয়ম কিছুটা কম থাকে বলে ফ্রিল্যান্সাররা কাজে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। ২০১২ সারের ফ্রিল্যান্স ইন্ডাস্ট্রির তথ্য মতে, স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারায় ৯০ শতাংশ ফ্রিল্যান্সার সুখী এবং বিশ্বে অর্থনৈতিক মন্দা হওয়া স্বত্বেও অর্ধেকের বেশি ফ্রিল্যান্সার চিন্তিত নয়। এটা বলা চলে, ৭৭ শতাংশ ফ্রিল্যান্সাররা আগামী এক বছরে তাদের ব্যবসা বা পেশা নিয়ে দারুণ আশাবাদী থাকে। অনেকেই এই সফলতা দেখে ফ্রিল্যান্স আউটসোর্সিং পেশায় আসতে চান। তবে কেউ কেউ মনে করে মার্কেটপ্লেসে অভিজ্ঞতা না হলে অথবা রেটিং না থাকলে এই পেশায় ভাল করা যায় না। তবে আসল কথা হল মার্কেটপ্লেস নিয়ে অভিজ্ঞ না হয়েও যদি কাজে দক্ষতা থাকে, তাহলে এই পেশায় আসা যায় এবং ইচ্ছা, পরিশ্রম ও ধৈর্য্য থাকলে অনেক ভালো করা যায়। কয়েকটি বিষয় মেনে চললে বা সিদ্ধান্ত নিলে আপনি এই পেশায় ভাল করতে পারেন।
১) লক্ষ্য নির্ধারণ করা
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আপনি ফ্রিল্যান্সিংয়ের কোন কাজটি করতে চান বা আপনার কোন সেবা বিক্রি করতে চান সেটি আগে নির্ধারণ করতে হবে। অধিকাংশ মানুষ যে ভুলটি করে, তা হল অন্যরা কি করছে তা অনুসরণ করা। এ ক্ষেত্রে আপনার যে অভিজ্ঞতা আছে বা আপনার যে বিষয়টি ভালো লাগে সেটি নির্বাচন করা। আপনি যদি গণিতে ভাল হন, তাহলে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত প্রোগ্রামিং। আর যদি আঁকাআঁকি ভাল লাগে তাহলে আপনার জন্য গ্রাফিক্স ডিজাইন সবচেয়ে সুবিধাজনক হবে। যদি লেখালেখি ভাল লাগে তাহলে লেখালেখিতেই ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার গড়তে পারেন।
২) ভাল একটি ফ্রিল্যান্স প্রোফাইল তৈরি করা
ফ্রিল্যান্সারদের মূল সমস্যা হল তারা তাদের প্রোফাইল সুন্দর করে তৈরি করে না। অধিকাংশ ফ্রিল্যান্সাররা ভাবে কাজের দক্ষতা অর্জনের পরেই প্রোফাইল তৈরি করা যায়। এটা একটি ভুল ধারনা। একজন ফ্রিল্যান্সারের স্কিল অর্জন করার আগে কাজে বিড করা উচিত নয়, তবে,  একজন ফ্রিল্যান্সারের যদি  মার্কেটপ্লেসে অ্যাকাউন্ট না থাকে এবং যদি প্রতিনিয়ত কাজের ধারাগুলো না দেখে, তাহলে কখনো জানতে পারবে না মার্কেটপ্লেসে কি কি ধরনের কাজ থাকে। স্কিলের পাশাপাশি মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ভাল ধারনা থাকতে হবে, কেননা কাজ করার আগে মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে জানা খুবই জরুরী।
৩) মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারনা নেওয়া
নতুন অবস্থায় একজন ফ্রিল্যান্সারের মার্কেটপ্লেস সম্পর্কে ধারনা নাও থাকতে পারে। তবে সঠিকভাবে কাজ করার ক্ষেত্রে এ সম্পর্কে পূর্ণ ধারনা থাকা আবশ্যক। বেশির ভাগ ফ্রিল্যান্সার এ ধারনা পাওয়ার জন্য বিভিন্ন সোশ্যাল সাইট গুলোতে প্রশ্ন করে থাকে। অথচ প্রতিটি অনলাইন মার্কেটপ্লেসে তাদের হেল্প সেন্টার থাকে, যেখানে অনেক সঠিক তথ্য পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ইল্যান্সের হেল্প সেন্টারে (http://help.elance.com/home)
http://goo.gl/pqnhkK  শতাধিক সাহায্যকারী পোস্ট আছে। একজন ফ্রিল্যান্সারের নিয়মিত এই পোস্টগুলো দেখা উচিত। ভালো ভাবে জানার পরেই মার্কেটপ্লেসে কাজের জন্য বিড করা বা কাজ করা উচিত।
৪) বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জন করা
আমরা একটি কম্পিউটার কিনতে গেলে শুধু একটি কম্পিউটারের কেসিং বা বাক্স কিনি না, এর সাথে প্রয়োজনীয় সকল যন্ত্রাংশও কিনি। তেমনি,  যখন কোন ক্লায়েন্ট একজন ফ্রিল্যান্সারকে হায়ার করবে সে একটি পরিপূর্ণ প্যাকেজ চায়। এক্ষেত্রে একটি প্রোফাইল তৈরি করাই যথেষ্ট নয়, একজন ফ্রিল্যান্সারকে অবশ্যই প্রমাণ করতে হবে কাজটি করার জন্য তার কি যোগ্যতা আছে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি করতে এবং যোগ্যতা প্রমাণ করতে একজন ফ্রিল্যান্সার দুটি কাজ করতে পারেনঃ
  • স্কিল টেস্টঃ একজন ফ্রিল্যান্সারের স্কিল টেস্টের মাধ্যমে তিনি কি কাজ করতে পারেন সে সম্পর্কে জানা যায়। ইল্যান্সে ফ্রিল্যান্সারদের জন্য স্কিল টেস্টের ব্যবস্থা আছে, যেখান থেকে স্কিল টেস্ট দিয়ে আপনার দক্ষতা যাচাই করা খুবই সহজ। এই টেস্টগুলো বিনামূল্যে  দেওয়া যায় এবং কেউ যদি টেস্টে খারাপ করেন তাহলে টেস্টটি হাইড করতে পারবেন এবং পুনরায় টেস্টটি  ১৪ দিন পরে আবার দিতে পারবেন এবং এটাও আবার ফ্রিতেই দিতে পারবেন। যদি ফ্রিল্যান্সার তার প্রোফাইলে ভালো স্কোর দেখাতে পারেন, তাহলে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা অনেকাংশে বেড়ে যায়।
  • পোর্টফলিওঃ স্কিল টেস্ট প্রমান করে বৈষয়িক জ্ঞান, আর পোর্টফলিও প্রমাণ করে একজন ফ্রিল্যান্সারের দক্ষতা এবং হাতে কলমে কাজ করার অভিজ্ঞতা। একজন নতুন ফ্রিল্যান্সার এর উচিত যত বেশি পোর্টফলিও সংযোগ করা। ওয়েব ডেভেলপার তার ডেভেলপ করা সাইটের স্ক্রিনশট নিয়ে আপলোড করতে পারেন, এবং গ্রাফিক্স ডিজাইনার তার ডিজাইন তৈরি করে প্রোফাইলে যুক্ত করে দেখাতে পারেন। বাণিজ্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজগুলো সংযুক্ত করতে পারেন স্কিল হিসেবে। সার্ভিস হোল্ডাররা তাদের সার্টিফিকেট দিয়ে দিতে পারেন অভিজ্ঞতা হিসেবে। সর্বোপরি কোন প্রোফাইলের পোর্টফলিও একজন ফ্রিল্যান্সার যে বিষয়ে দক্ষ সে বিষয়ে তার পরিপূর্ণ দক্ষতা আছে সেটা প্রমাণ করে।
৫) নিজের প্রচারণা চালানো
নিজের ঢোল পেটানো কথাটি খারাপ শোনালেও একজন ফ্রিল্যান্সারের ক্ষেত্রে এটি তেমনটা নয়। আপনাকে যেহেতু আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক মার্কেটে কাজ করতে হবে তাই আপনার পরিচিতি থাকা আবশ্যক। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে নিজের অবস্থান তৈরি করতে আপনার ত্রুটিমুক্ত প্রোফাইল এর পাশাপাশি নিজেকে বিভিন্নভাবে তুলে ধরতে হবে। তাই সম্ভব হলে নিজের একটি পোর্টফলিও ওয়েবসাইট তৈরি করা ভালো। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ সাইটের প্রোফাইল ও পেজের মাধ্যমে আপনার এবং আপনার বিভিন্ন সেবা তুলে ধরতে পারেন। অবশ্যই প্রফেশনাল ছবি ও তথ্য শেয়ার করা উচিত। সামাজিক যোগাযোগ সাইটে আপনার পার্সোনালিটি নষ্ট হয় এমন কোন কিছু করা উচিত নয়। ফ্রিল্যান্সিং সেক্টরে কাজ করেন তাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ প্রয়োজন।  এতে তাদের মাধ্যমে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। এভাবেই আপনি আপনার ফ্রিল্যান্সিং জীবন শুরু করতে পারেন।
সর্বশেষে না বললেই নয়, গুগলকে নিজের সবচেয়ে কাছের বন্ধু বানিয়ে ফেলুন। যেকোনো সফল ফ্রিল্যান্সারকে জিজ্ঞেস করলেই দেখবেন, প্রত্যেকেই বলবে তারা অনেক কিছু গুগল সার্চ করে জেনেছে। বিষয়টি আসলেই সত্যি। আমরা অনেক সময়ই অনেক ধাপে আটকে যাই, তখনি গুগল সার্চ করুন, দেখবেন প্রচুর রিসোর্স ইতিমধ্যে অনলাইনে আছে যা আপনাকে সাহায্য করবে। প্রোফাইল কমপ্লিট করতে পারছেন না? গুগলে গিয়ে সার্চ দিন, “How to complete Elance profile”। প্রপোজাল লেটার লিখতে সাহায্য দরকার? গুগলে সার্চ দিন, “How to write a perfect Elance proposal”। ফটোশপে কাজ করতে গিয়ে আটকে গিয়েছেন, গুগলে গিয়ে Photoshop Help অথবা Photoshop Tutorial Video লিখে সার্চ করুন, দেখবেন হাজার হাজার রিসোর্স আছে সাহায্যের জন্য। যেহেতু আমরা মুক্ত-পেশাজীবী হিসেবে নিজেকে গঠন করতে চাচ্ছি, নিজে থেকেই প্রয়োজনীয় তথ্য খুঁজে বের করাটাও আমাদের আয়ত্ত করতে হবে।
এভাবে যদি নিজের ফ্রিল্যান্স ক্যারিয়ার শুরু করেন, তাহলে আশা করা যায় খুব কম সময়েই সফলতা পাবেন, এবং সেটি দীর্ঘস্থায়ী হবে।
ধন্যবাদ,
কালেকশন ( ইল্যান্স বাংলাদেশ )
Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / Change )

Connecting to %s